স্বেচ্ছাচারিতা

July 19, 2020

আমি অবন্তীর অস্বস্তিটুকু টের পাচ্ছিলাম, কিন্ত তবু আমার ঠোঁট সরাতে ইচ্ছা করছিল না। কিন্ত এক পর্যায়ে যখন অবন্তী আমাকে ঠেলে সরিয়ে দিয়ে বলল, “সুব্রত প্লীজ!” - তখন আমার না থেমে উপায় ছিলনা। আমি একটুখানি অবাক এবং অনেকখানি বিরক্ত হয়ে অবন্তীর দিকে তাকালাম। মেয়েরা অদ্ভুত - একেক সময়ে একেক রকম আচরণ করে।এম আই এস টি লাইফের শেষদিনে এই রকম হুট করে কক্সবাজার চলে আসার প্ল্যান আমার ছিলনা , অবন্তীর ছিল।

গভীর রাতে হাটার সময়, আমি কথা প্রসঙ্গে কিছু একটা চাইলে, আগে বিয়ে করে নেয়ার প্রস্তাব আমি দেইনি, অবন্তী দিয়েছিল।

বিয়ের কাবিননামায় অবন্তীর সাইনটি আমার দেয়া নয়, অবন্তীর নিজেরই দেয়া। সবকিছুই তার ইচ্ছামতই হয়েছে। তবে এখন এইটুকুতেই এত সমস্যা কেন তার?

আমি বললাম, ” কি হইসে? কোন সমস্যা?”

অবন্তী ভীত অথচ দৃঢ় গলায় বলল, “এইসব ঠিক না সুব্রত”

এইবারে রাগ চেপে রাখা আসলেই কষ্ট হচ্ছে, আমি বললাম, ” বিয়ের পর এইসব ঠিক না? বিয়ে মানুষ কেন করে? রাতের বেলায় দুইজন মিলে দেশের আর্থসামাজিক বিষয় নিয়ে আলোচনা করার জন্য?” অবন্তী ঠান্ডা গলায় বলল, “এই বিয়েটা ভুল ছিল সুব্রত, আমি ডিভোর্স চাই!”

আমি নিজের কানকে বিশ্বাস করতে পারলাম না, সেচ্ছাচারিতা এর ও একটা লিমিট আছে ! আমি বললাম,

এতটুকু লিখার পর সা’দনূর সালেহীনের মনে হলো লেখাটি জমছেনা। প্লট অর্থহীন ভেবে সে প্রথমে কাগজটিকে চারভাগ করলো।

তারপর অনেক টুকরো করে ছিড়ে উড়িয়ে দিল। একটু পরে সে খেয়াল করল, তার সামনে ছেড়া পরপর দুইটি কাগজের একটিতে লিখা “এম আই এস টি” আরেকটিতে লেখা “স্বেচ্ছাচারিতা” । সে চোখ ছোটছোট করে ছেড়া কাগজদুটির দিকে তাকিয়ে রইল।