প্রাইভেট ইউনিভার্সিটি

July 18, 2020

বাপী নিজের কানকে বিশ্বাস করতে পারলো না, “সিরিয়াসলি মা? উর্মিলা প্রাইভেট ইউনিভার্সিটিতে পড়েছে বলে আমি ওকে বিয়ে করতে পারবো না?”

গায়ত্রী রাইয়ের শীতল চোখ শাদা বরফের মতন দেখতে, “ তোমাকে এত কষ্ট করে যোগ্য বানিয়েছি, যোগ্য মেয়েই ঘরেই আনবো”

বাপী হিসেব মিলাতে পারেনা, তার বাবা নেই - এই মা ই একলা বড় করেছে তাকে, সিঙ্গেল মাদার হিসেবে বাংলাদেশের মত যায়গায় সারভাইব করা রীতিমত অসম্ভব ছিল,পদে পদে অসম্মান, তবু এই মা’র কাছেই বাপী শিখেছে কিভাবে মানুষকে সম্মান করতে হয় - অথচ সেই মা ই একটা মানুষকে তার ইউনিভার্সিটি দিয়ে এক কথায় জাজ করে ফেলল?

উর্মিলার বায়োডাটাতে একটা প্রাইভেট ইউনিভার্সিটির নামের উপস্থিতি তার সাথে উর্মিলার সাড়ে আঠারো মাসের সম্পর্ক শেষ করে দেবে? ওরা বিয়ে করতে পারবেনা? নাহ , তার মা এইটা কখনো করতে পারেনা।

গায়ত্রী রাই নিজের রুমে এসে স্তব্ধ হয়ে বসে থাকে, তার ছেলের সাথে সে কখনোই এইরকম কঠিন ভাষায় কথা বলেনি, উর্মিলার বাবার নম্বরটায় ফোন করে বলে, “হ্যালো মিস্টার মজুমদার?”

“ইয়েস স্পিকিং”

“আমি বাপীর মা বলছি”

“ওহ বৌদি, আপনাদের নিয়েই কথা হচ্ছিল … কেমন আছেন?”

“আমি বাপীর মা, গায়ত্রী রাই বলছি, চিনতে পেরেছো?”

ওপাশ থেকে অনেকক্ষণ কোন শব্দ ভেসে আসেনা, গায়ত্রী রায় প্রত্যেকটি শব্দে জোর দিয়ে বলে, “এই বিয়েটা যে থামাতে হবে বুঝতে পারছো?”

সুব্রত মজুমদার ফোন রেখে দেয়, ঠিক যেভাবে পঁচিশ বছর আগে গায়ত্রী রাই প্রেগন্যান্ট জানার পর ফোন রেখে দিয়েছিল।