অপরাজিতার নগ্ন শরীর

July 19, 2020

অপরাজিতার নগ্ন শরীরটা দেখলে ইদানীং নিজেকে অপবিত্র মনে হয়, এক রাশ আরামদায়ক পাপের মধ্যে গা ডুবিয়ে চোখ বন্ধ করে শুয়ে আছি বলে মনে হয়।

অথচ আমাদের সম্পর্কটা আর দশটা সম্পর্কের মতো স্বাভাবিক হতে পারতো।

আমরা সামনা সামনি দূরত্বে নর্থএন্ডে এবং পাশাপাশি দূরত্বে রিকশায় বসে গল্প করতে পারতাম। গল্পের মাঝখানে হাত ধরে বসে থাকতে পারতাম - কিংবা সিনএনজি তে একটু অন্ধকারে লুকিয়ে লুকিয়ে চুমু খেতে পারতাম। কিন্তু এইসব কিছুই হয়নি আমাদের।

অপরাজিতা আমার আউট অফ লীগ, ওর সাথে কখনো আমার কোন সম্পর্ক হবে তা স্বপ্নেও ভাবিনি, কিন্ত এমন সম্পর্ক হোক সেটিও আমি চাইনি।

তাই একদিন যখন থেমে যাওয়া সময় আবার চলতে লাগলো সেই বদ্ধ ঘরে, যখন আমরা ঘর্মাক্ত এবং পরিশ্রান্ত তখন আমি অপরাজিতার নগ্ন শরীর উপেক্ষা করে তার চোখের দিকে তাকিয়ে বললাম, “আমায় বিয়ে করবি?”

অপরাজিতা কয়েক সেকেন্ড আমার মুখের দিকে এক দৃষ্টিতে তাকিয়ে রইল। তারপরই আমার উপর থেকে উঠে কাপড় পড়তে লাগলো। নরম অথচ শীতল গলায় বলল, “আমি জানতাম, জানতাম এমনই কিছু একটা হতে পারে। ছেলেরা সব সময়ই গড়বড় করে”

আমিও উঠে বসলাম, “কিন্ত এইভাবে আর কত দিন?”

অপরাজিতা সপ্রশ্ন দৃষ্টিতে আমার দিকে তাকিয়ে থেকে বলল, “কেন? তুই কি বোরড? আমাকে ভাল লাগেনা আর?”

আমি বললাম, “ভাল লাগে, ভাল লাগে বলেই ভাল বাসি। ভাল বাসি বলেই তোকে বিয়ে করতে চাই”

অপরাজিতা বলল, “কিন্ত এরকম তো কথা ছিলনা। আমরা দুজন কথা বলে, ঠান্ডা মাথায় এই ডিসিশন নিয়েছিলাম। আমি আগেই বলেছিলাম, আমার থেকে কোন এক্সপেক্টেশন রাখবিনা। যে কোন দিন আমি চলে যাব।” আমি বললাম, “মনে আছে সবই। তবু … কোথাও একটা কিন্ত থেকেই যায়।”

অপরাজিতা হাসল, “আচ্ছা তাহলে আর কোন কিন্ত থাকলো না।”

“মানে?”

“এই শেষ… আমি আর আসছি না সাব্বির, আমাকে আর পাচ্ছিস না”

ততক্ষণে অপরাজিতার রেডি হওয়া শেষ। আমাকে আর কিছু বলার সুযোগ না দিয়ে চলে গেল সে। নিজের দেহটাকে একটা নরকের বিচ্ছিরি কীটের মতোন মনে হতে লাগল আমার। গোসল করে ফ্রেশ হওয়া দরকার - উঠে দাঁড়ালেই হয় - কিন্ত উঠতে ইচ্ছা করেনা।

অপরাজিতাকে আমি সেবছর আর পাইনি। তার পরের বছর ও পাইনি। তার পরের দুই বছরেও ও না। ফেসবুকে ব্লক খাবার পর ফোনে আর খুঁজিনি। সেভাবে ভালবাসিনি বলেই হয়তো খুঁজিনি কিংবা মেয়েটার শরীরের আমার আর খোঁজার কিছু বাকী ছিলনা বলেই খুঁজিনি।

কিন্ত তার পরের বছর এক নর্থএন্ডেই আমার আবার অপরাজিতার সাথে হঠাত দেখা। আমি অবাক হয়ে দেখলাম সে আমাকে দেখে বিব্রত হচ্ছেনা। এই কয়েক বছরে একটুও বদলায়নি মেয়েটা।

আমি বললাম, “বসবো?”

অপরাজিতার ঠোটের কোণে সরস হাসি, সম্ভবত তার মনে পড়ে যাচ্ছে অনেক কিছু। আমি বললাম, “এত দিন পরে দেখলাম… কোথায় ছিলি?”

“সোশাল মিডিয়া থেকে একটু দূরে ছিলাম, সুব্রতের সাথে সম্পর্কটা ভাল যাচ্ছেনা - অনেক চেষ্টা করলাম, বিয়েটাকে মনে হয় আমি আর টিকাতে পারবো না।”

আমার সমব্যথী হওয়া উচিত, কিন্তু সেরকম কিছু না করে আমি অপরাজিতার বুকের দিকে তাকালাম, “তুই তো অনেক হট হয়ে গেছিস!”

অপরাজিতা বলল, “ফ্লার্ট করার চেষ্টা করিস না, পাত্তা দিবোনা তোকে।”

“তোর কি মনে হয় আমার জন্য মেয়ের এতই আকাল পড়েছে, যে বিবাহিত মেয়েদের দিকে তাকাবো?”

“খুব ? লাস্ট ১০ মিনিট ধরে তো বিবাহিত মেয়েই চেকাউট করে যাচ্ছিস।”

আমি হাসলাম, এরপর অপরাজিতা অনেক অনেক কথা বলল সেদিন। তার পরের দিনও বলল, তার পরের দিনও বলল। শেষে এটাও বলল কোন এক্সপেক্টেশন না রাখতে। আমি কথা দিলাম রাখবোনা। কিন্তু অপরাজিতার নগ্ন শরীরটা দেখলে ইদানীং নিজেকে অপবিত্র মনে হয়, এক রাশ আরামদায়ক পাপের মধ্যে গা ডুবিয়ে চোখ বন্ধ করে শুয়ে আছি বলে মনে হয়।

অথচ আমাদের সম্পর্কটা আর দশটা সম্পর্কের মতো স্বাভাবিক হতে পারতো।

আমরা কোন পার্কের বেঞ্চে বসে অর্থহীন কোন টপিকে অপ্রয়োজনীয় কিন্ত উপাদেয় কথোপকথন চালিয়ে যেতে পারতাম। কিংবা রিকশায় নিরাপদ দুরত্ব রাখার ব্যর্থ চেষ্টা চালিয়ে যেতে পারতাম। কিংবা হাত ধরে ন্যাকা অথচ সুন্দর প্রেমের কিছু সংলাপ বলতে পারতাম


প্রথম মহাজাগতিক প্রাণীঃ তুমি শিওর পৃথিবীর অন্য অংশগুলোতে এই বাগ টা নেই? বাকী সব জায়গায় সময়ের প্রবাহ ঠিক আছে?

দ্বিতীয় মহাজাগতিক প্রাণীঃ হ্যাঁ, সিমুলেশন লগ চেক করে দেখেছি, অন্য কোথাও এই ইনফিনিটি লুপ ক্রিয়েট হয় নাই। এই বাগটা আগেই ফিক্স করে ডেপ্লয় দিয়েছিলাম, কিন্তু ডাটা মাইগ্রেশনে মনে হয় কোন গণ্ডগোল রয়ে গেছিল, সুব্রত সাব্বির আর অপরাজিতাকে মেরে ফেললেই প্রবলেম সল্ভড

প্রথম মহাজাগতিক প্রাণীঃ আচ্ছা মেরে ফেল, কিন্তু এইটাই লাস্ট - তোমার ভুলের কারণে যদি পৃথিবী থেকে এইভাবে ম্যানুয়ালি মানুষ রিমুভ করতে হয় আবার, তাহলে কিন্তু তোমার ক্যপাবিলিটি নিয়ে আমার প্রশ্ন তুলতে হবে।

দ্বিতীয় মহাজাগতিক প্রাণীঃ বুঝেছি, আমি খুবই দুঃখিত