লং ডিস্টেন্স তাহলে?

July 19, 2020

মাইকোপ্লাজমা ব্যাকটেরিয়াটিকে খুব চিন্তিত দেখায়, “মনে হয় আমাদের হোস্ট নিউমোনিয়ার ওষুধ খাচ্ছে - খুব সম্ভবত আমরা বেশীক্ষণ বেঁচে থাকবোনা।”

সামনে চুপ চাপ বসে থাকা অপর ব্যাক্টেরিয়াটা বলে, “হুম - আই অলসো থিংক সো … ”

“আমি যদি মরে যাই, তাহলে হয়তো কখনো তোমাকে বলা হবেনা - শেষ দুই সপ্তাহ তোমার সাথে কাটানো টাইমগুলো আমি কখনোই ভুলবোনা।”

সামনের ব্যাক্টেরিয়াটি কি যেন বলতে গিয়ে থেমে যায়, চুপ চাপ তাকিয়ে থাকে - ঠিক যেভাবে ক্রিমসন কাপে বসে সাব্বির চুপ চাপ তাকিয়ে আছে নীরার দিকে - সেভাবে। নীরা বলে, ” Crimson Cup Mocha ফ্রোজেন টা এভেইলেবল না, ইনগ্রেডিয়েন্টস নাকি নাই - এইটা কোন কথা!”

সাব্বির বলে, “মাত্র তো নিউমোনিয়া থেকে উঠে এসেছো - এখনই ঠান্ডা খেতে হবে? লাস্ট দুই সপ্তাহ এত অসুস্থ ছিলে - আমি তো ভেবেছিলাম তোমার সাথে বোধহয় আর দেখাই হবেনা!”

নীরা একটু হাসার চেষ্টা করলো, “তোমার ফ্লাইট কবে?”

“পরশু…”

“লং ডিস্টেন্স তাহলে?…”

সাব্বির বলে, “কানাডা কিন্তু বেশী দূরে না … আমি তো প্রতি বছরে একবার করে আসবো, অনেক অনেক ঘুরবো তখন।”

নীরা কিছু বলেনা, আজকের এই দেখার পর থেকে সে প্রত্যেকটা দিন গুনবে, পরের বছরের এই দিনটার জন্য - ঠিক যেভাবে আর্থ দিন গুনছিল মার্স এর জন্য।

সাড়ে চাড় বিলিয়ন বছর ধরে আর্থ প্রতিদিন এই দিনটার জন্য অপেক্ষা করে - এইদিন একটু বেশী নীল হয়ে থাকতে ইচ্ছে করে তার, কিছুক্ষণের মধ্যেই মার্স অনেক কাছে চলে আসবে তার, একদম আপন ৩৮ মিলিয়ন মাইলের মধ্যে।

সাড়ে চার বিলিয়ন বছর ধরে, প্রতি বছরে এই দিনে দেখা হচ্ছে তাদের, কিন্তু এখনো সেই পুরানো নার্ভাসনেস, পুরানো এক্সাইটমেন্ট।

আর্থ অধীর আগ্রহে মার্সের জন্য অপেক্ষা করতে থাকে!