কিরিনের খুনি

July 19, 2020

“তুশান, তুমি কি আমাকে আসলেই আমাকে কখনো ক্ষমা করতে পারবে? আমি তোমার ছেলেকে এইভাবে খুন করলাম?”

আমি একটা দীর্ঘশ্বাস ফেললাম, নায়ীরা তিন বছর আগের ঠিক এই দিনের কথা বলছে - যেদিন অসাবধানতাবশত একাশি তলা বিল্ডিং এর ছাদ থেকে ফেলে দিয়েছিল, অত উঁচু থেকে নিচে পড়ে আট মাসের শিশুর বাচ্চাটির মস্তিষ্ক রাস্তায় ছড়িয়ে পড়ে ছিল - নায়ীরা একটুও চিৎকার না দিয়ে, অবাক বিস্ময়ে তাকিয়ে ছিল - যে মস্তিষ্কটি তৈরি হয়েছিল তার গর্ভের ভেতরে। একটুখানি উষ্ণতায় আর অনেকখানি মমতায়।

আমি নায়ীরা কে শক্ত করে জড়িয়ে ধরে বললাম, “কিরিন তো তোমারও ছেলে ছিল নায়ীরা - ঐ ঘটনাটি একটা এক্সিডেন্ট ছিল - Don’t blame yourself”

নায়ীরা অসহায়ের মত কাঁদতে থাকে - আমি একটা চরম সত্য বলতে গিয়েও থেমে গেলাম, যে সত্য চারশো একাশি বার চেষ্টা করে কাউকে বিশ্বাস করাতে পারিনি সেটি বলে কি লাভ।

নায়ীরা ফুঁপিয়ে ফুঁপিয়ে কাঁদতে থাকে - আমার এই পৃথিবীর ডিজাইনারদের উপর ভীষণ রাগ হতে থাকে।

যেদিন থেকে মানুষের বয়স বাড়া বন্ধ হলো, এই নাটকের শুরু সেদিন থেকে। প্রতি তিন বছর পর পর, আমাদের মেমোরি রিসেট করা দেয়া হয়। কোন এক বিচিত্র কারণে যেটি কোনদিনই আমার উপরে কাজ করেনি বলে আমি চোদ্দশো তেতাল্লিশ বছরের সত্যিকার এবং হাজার হাজার বছরের মিথ্যা মেমরি নিয়ে বসে আছি।

আমি জানি কিরিন নামে কেউ নেই, ছিলোনা কখনো - আমার এই সিজনের স্ত্রী নায়ীরা এবং আমার মস্তিষ্কে পরিকল্পিতভাবে ঢুকিয়ে দেয়া একটা উপন্যাসের কিছু অংশ মাত্র। নায়ীরার ভেতরে থাকা এই অপরাধবোধ দেখলে, সেই উপন্যাসের রাইটারের গলা টিপে আমার মেরে ফেলতে ইচ্ছা করে।

আমার জীবনটা কেন খুব সাধারণ হলোনা? আমি তো জন্মে, যৌবনে একটি মেয়েকে বিয়ে করে… একসাথে বুড়ো হয়ে, খুব স্বাভাবিকভাবে মরতে চেয়েছিলাম - পয়ত্রিশ বছর বয়সীর চরিত্রে চারশো বিরাশিটা উপন্যাসে চরিত্র হতে চাইনি।

নায়ীরা কাঁদছে, কাদুক।