গাউছিয়া সুপার মার্কেট

July 19, 2021

আমি প্রচণ্ড বির আমাদের চতুর্থ ডেটটি হওয়ার কথা ছিল পশ কোন রেস্টুরেন্টে - অথচ হলো গাউছিয়া সুপার মার্কেটে।

নীরা শেষ মুহুর্তে জানালো, তাকে ঝুমকা কিনতে হবে আজ। গাউছিয়া মার্কেটে আসার পর পর নীরা বলল, “দরদাম পারেন?”

আমার মনে পড়ল শেষবার একটা জিন্স প্যান্ট কেনার টাইমে বন্ধুর শিখিয়ে দেয়া টেকনিকে মুল দামের এক তৃতীয়াংশ দাম বলার পর দোকানদার বলেছিল, “দেড়শ টাকায় তো জাইংগাও পাবেন না - প্যান্ট কিনতে আসছেন, যান ভাগেন!”

আমি তাই বললাম, “নাহ পারিনা একদমই”

নীরা বলল, “বেশ … আজকে আমার থেকে শিখে নিন, কিভাবে দরদাম করতে হয়। নেক্সট বার আপনি দরদাম করবেন”

আমি “আচ্ছা” বলে নীরার পেছনে পেছনে ঘুরতে লাগলাম, ঘোরা আর শেষ হয়না।

২০০ টাকার জিনিসটা ১৯০ টাকায় পাইনি বলে আমরা গত দেড় ঘণ্টা ধরে এক মাইল ঘুরলাম, আমি নীরা কে বলতে চাইলাম, এই যে ১০ টাকা বাঁচানোর জন্য ১০০ মিনিট ঘোরা লাগছে, এর চেয়ে কম কষ্টে ১০ টাকা উপার্জন করা যায়। ১০ টাকা বাঁচানোর জন্য এত প্যারা নেয়ার মানে হয়না। এইটা একটু কিপটামি।

কিন্তু কিছুই বললাম না, এইসব কথা গার্লফ্রেন্ডকে বলা যায় - যে এখনো গার্লফ্রেন্ড হয়নি তাকে বলা যায় না।

১০ টাকার যুদ্ধে নীরা জয়ী হল, আমরা দুইজনই ততক্ষণে ঘেমে একাকার - বের হয়ে আমি পানি খুঁজছিলাম, এমন সময় একটা ভিক্ষুক এসে বলল, “একটু সাহায্য করেন।”

ক্ত হলাম, একটা ছেলে এবং একটা মেয়েকে এক সাথে দেখতে পেলেই হল, ভিক্ষুকের দল ভীড় করবেই। আমি অনেকখানি বিরক্ত হয়ে বললাম, “যান মাফ করেন!”

ভিক্ষুকটা চলে যেতে উদ্যত হলে, নীরা বলল, “চাচা দাঁড়ান” তারপর ১০ টাকার একটা চকচকে নোট বের করে বলল, “এই নেন”।

প্রথম সেকেন্ডে আমার এক চা চামচ পরিমাণ অবাক হলাম, কিন্তু দ্বিতীয় সেকেন্ডে আমি আমার হাতে থাকা ঘড়িটির দিকে তাকালাম।

আমার সাথে নীরার কোন দিন বিয়ে হলে ওকে বলব, জানুয়ারি মাসের এক শনিবারে বিকেল চার টা একচল্লিশ মিনিটে গাউছিয়া সুপার মার্কেটে তোমার প্রেমে পড়েছিলাম